প্রকাশঃ Fri, Nov 1, 2019 2:41 PM
আপডেটঃ Tue, Nov 19, 2019 5:31 AM


নবীজিকে অনুসরণ করো হে মন

অনলাইন ডেস্ক

নবীজিকে অনুসরণ করো হে মন

রাসূল আমার ভালোবাসা/ রাসূল আমার আলো আশা

রাসূল আমার প্রেম বিরহের মূল আলোচনা/ রাসূল আমার কাজে কর্মে অনুপ্রেরণা।

রাসূলের আদর্শ আমাদের সব কাজে প্রেরণা জোগালেই আমরা প্রকৃত মুমিন হতে পারব। নবীজি ফরমান লা ইউ’মিনু হাত্তা ইয়াকুনা হাওয়াহু তাব’আন লিমা জি’তু বিহি। তোমরা ততক্ষণ মুমিন নও যতক্ষণ না তোমাদের প্রবৃত্তিকে আমার আনিত জিনিসের ওপর বিলীন করতে পেরেছ।

দুঃখজনক হলেও সত্য তার আদর্শ শুধু ধর্মীয় ইবাদত তথা নামাজ-রোজা ছাড়া অন্য কোনো সামাজিক ইবাদতে এমনকি হজ জাকাতেও ধরে রাখতে পারিনি বলে আমরা প্রকৃত মুমিন হতে না পেরে দুনিয়ার কল্যাণ থেকে বঞ্চিত।

আজ যে হজ উমরা হচ্ছে রিয়ায় পরিপূর্ণ সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধির এক নতুন কৌশল মাত্র। নেতা হজ করে ভোটের কাটতি বৃদ্ধির জন্য। ওয়ায়েজিন হজ করে দাওয়াত বৃদ্ধির জন্য। কিন্তু প্রকৃত হজ কোথায় তা জানার জন্য নবীজির সিরাত বা জীবনীর দিকে নজর করতে হবে। সেখানে দেখা যাবে প্রায় ১৫০০ সাহাবি নিয়ে নবীজি ৮ম হিজরিতে বায়তুল্লাহ সফরে উমরাহ করতে গেলে মক্কার কোরাইশরা তাকে হোদায়বিয়ায় আটকে দিয়ে মক্কায় প্রবেশে বাধা দেয়।

অথচ যুগযুগ থেকে রেওয়াজ ছিল বায়তুল্লাহ সফরে কাউকে বাধা দেয়া যাবে না। মক্কার পরিস্থিতি জানার জন্য কোরাইশদের কাছে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য উসমান (রা.)কে মক্কা পাঠান। উসমানের ফিরে আসতে দেরি হওয়ায় ষড়যন্ত্রকারীরা রব ওঠায় মক্কায় উসমানকে হত্যা করা হয়েছে। কেউ বলল উসমান কোরাইশদের সঙ্গে সমঝোতা করে বায়তুল্লাহর তাওয়াফ শুরু করেছে। নবীজি বলেন, আমাকে ছাড়া উসমান বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করবে না। তাকে হত্যা করা হয়েছে তাও বিশ্বাসযোগ্য নয়।

তবে তেমন কিছু হয়ে থাকলে আমরা তার হত্যার বদলা না নিয়ে যাব না। আস আমার হাতে হাত রেখে কেসাসে উসমানের অঙ্গীকার নাও। যা ইতিহাসে ‘বাইয়াতে রেদ্বওয়ান’ বলে উল্লেখ আছে। আমরা আমাদের স্বার্থে এই বাইয়াত থেকে দূরে থাকা এবং কোটারি স্বার্থে বাতিলের অনুচরদের সঙ্গে আপস করার কারণেই মার খাচ্ছি বিশ্বব্যাপী। লুট করে নিচ্ছে মুসলমানের সম্পদ ভিন্ন জাতি। আমাদের মক্কা-মদিনায় ভিন্ন জাতির প্রবেশ নিষিদ্ধ হলেও তাদের ব্যবসা চলছে দেদার।

ইহুদি নাসারা নিজেরা অহিনকুল সম্পর্কে থাকলেও মুসলিম অগ্রযাত্রায় তারা জিগরি দোস্ত হয়ে কাজ করে যাচ্ছে। মক্কা হেরেমের প্রধান গেট দিয়ে বের হলে তাদের কেএফসি, ম্যাগডোনাস নজরে পড়বে সবার আগে। যাদের ব্যবসার একটি অংশ বিশ্বব্যাপী মুসলিম নিধনে ব্যয় হয়। মদিনা হেরেমের প্রধান গেট দিয়ে বের হলে দেখা যায় ওমেগা ঘড়ি যা হারিয়ে যাওয়া হাজীদের একটি নির্ধারিত পয়েন্ট। মক্কা-মদিনার বাজারগুলো দখল করে আছে চায়না জাপানি পণ্য।

এমনকি আপনার হাতের তসবি জায়নামাজও তাদের তৈরি। মাজুর মুসল্লিদের চেয়ারগুলোর বাজার সৌদির বিখ্যাত চেইনশপ বিনদাউদের মাধ্যমে দখল করে রেখেছে। অথচ এই সামগ্রীগুলো মানসম্মতভাবে মুসলমান সরবরাহ করত। আমাদের অভাব দূরদর্শিতার। তারা ভিন্নধর্মী হয়েও দূরদর্শিতার কারণে একজাতি হয়ে কাজ করছে।

যে নামাজ এসেছে আশরাফ আতরাফকে একই কাতারে শামিল করে সামাজিক ঐক্য দৃঢ় করতে সেই নামাজকে আমরা রুসুমি নামাজে পরিণত করেছি। নামাজের আহ্বান হল হাইয়্যা আলাল ফালাহ আসো কল্যাণের দিকে। খোঁজ নিলে দেখা যাবে নামাজি হয়েও সেই কল্যাণ থেকে আমরা বঞ্চিত। আমরা ফাওয়াইলুল্লিল মুসল্লিনার মধ্যে পড়ে গেছি।

আল্লামা ইকবালের ভাষায় রাহ গিয়া রুসমে আজা রূহে বেলালী না রাহী আজানে। রেওয়াজ রয়ে গেছে কিন্তু বেলালের আত্মিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত। এ কারণে আমরা ফেরকা গোষ্ঠীতে বিভক্ত। বিশ্ব সংস্থাগুলোর দিকে তাকালে বিষয়টি সহজে আঁচ করতে পারবেন। তারা মানবতার জয়গান করলেও কোথাও মুসলিম নাগরিকদের মানবতা লঙ্ঘিত হলে উট পাখির মতো বালিতে মুখ গুঁজে বসে থাকে। এর কারণ কী?

কারণ হল তারা নিজেরা নানা গোত্র বর্ণ ধর্মে ভিন্ন হলেও নিজেদের স্বার্থে একটি উম্মাহ। কিন্তু আমরা শান্তির ধর্ম ইসলামের ধারক বাহক হয়ে অন্যকে নিয়ে উম্মাহ গঠন করব তো দূরের কথা নিজেরাই শতধা বিভক্ত রাষ্ট্রচিন্তায় নবীজির অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত-

মদিনায় গিয়ে যেখানে নবীজি (সা.) মদিনার ভিন্নধর্মীদের নিয়ে মদিনার স্বার্থে একটি লিখিত চুক্তির মাধ্যমে উম্মাহ গঠন করেছিলেন। আমরা আজ সেই সুন্নাহ থেকে দূরে প্রতিবেশী হিন্দু ভাইদের অহরহ মালাউন চাড়াল বলে সম্বোধন করি। অথচ প্রতিবেশীর হক আদায়ে নবীজির কোনো ধর্মীয় বিভক্তি ছিল না।

নবীজি মদিনায় এসে সব নাগরিককে নিয়ে একটি জাতি তৈরি করেছিলেন যা আধুনিক রাষ্ট্রে দেখা যায়। আমরা বাংলাভাষী কলকাতায় বসবাসরত বাংলাভাষী থেকে ভিন্ন বাংলাদেশি জাতি। তারা ভারতীয় আবার একই ধর্মের হয়েও মাওলানা সাদ ভারতীয় আর মাওলানা জোবায়ের বাংলাদেশি এটাই আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তার নিয়ম যা নবীজির মাধ্যমে প্রায় দেড় হাজার বছর আগে মদিনায় শুরু হয়েছিল। মদিনায় আওস ও খাজরাজ গোত্রের যুগযুগ ধরে চলে আসা বাদ-বিসংবাদ নবীজি (সা.)-এর মাধ্যমে তিরোহিত হয়েছিল। ফা আল্লাফা বাইনা কুলুবিকুম অতঃপর আল্লাহ তোমাদের অন্তর মিলিয়ে দিলেন, ফা আসবাহতুম বি নি’মাতিহি ইখওয়ানা, আর আল্লাহ তার অসীম করুণায় তোমাদের ভাইয়ে ভাইয়ে পরিণত করে দিলেন।

লেখক : ধর্মচিন্তক সুফি ও গবেষক


ক্যাটেগরিঃ ধর্ম,
ট্যাগঃ নবীজিকে অনুসরণ করো হে মন
ঢাকা মেট্রো নিউজ


আরো পড়ুন