প্রকাশঃ Mon, Oct 21, 2019 8:46 PM
আপডেটঃ Sat, Nov 16, 2019 12:55 PM


ঢাবির রোকেয়া হল বিতর্ক ক্লাবে ‘নিয়মবহির্ভূত হস্তক্ষেপে’র অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক

ঢাবির রোকেয়া হল বিতর্ক ক্লাবে ‘নিয়মবহির্ভূত হস্তক্ষেপে’র অভিযোগ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হল বিতর্ক ক্লাবে হল প্রাধ্যক্ষ কর্তৃক ‘নিয়মবহির্ভূত হস্তক্ষেপে’র অভিযোগ পাওয়া গেছে।বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং ক্লাবের (ডিইউডিএস) সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচনে হল থেকে ভোটার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রাধ্যক্ষ ড. জিনাত হুদা সংগঠনের গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন ক্লাবের একাধিক বিতার্কিক। 

এ ব্যাপারে ডাকসুর সাহিত্য সম্পাদক মাযহারুল কবির শয়নের বিরুদ্ধে অবৈধ হস্তক্ষেপের অভিযোগ এনেছেন তারা।

ডিইউডিএস সূত্রে জানা যায়, আগামী ২৪ অক্টোবর ডিইউডিএসের নির্বাচনকে সামনে রেখে কেন্দ্রীয় সংসদ থেকে একজন ভোটার নির্ধারণ করে দেওয়ার জন্য হল শাখাগুলোতে চিঠি পাঠানো হয়। এই পদ্ধতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮টি হল থেকে একজন করে ভোটার নিয়োগ করা হয়। হলের প্রাধ্যক্ষ বা ডিবেটিং ক্লাবের মডারেটর ভোটার মনোনয়ন দিয়ে থাকেন। এদের ভোটেই নির্বাচিত হয় কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। হল প্রশাসন বরাবর পাঠানো চিঠিতে প্রত্যেক হলের সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদককে মনোনয়ন দিতে অনুরোধ করা হয়। অথবা এর বাহিরে অন্য কাউকে মনোনীত করতে হলে সংগঠনের গঠনতন্ত্রের ২৭ ধারা অনুসারে হল ডিবেটিং ক্লাবের সবার সর্বসম্মতিক্রমে তাকে মনোনয়ন দিতে হয়। 

বিতর্ক সংসদের গঠনতন্ত্রের ২৭ নং ধারায় বলা হয়েছে, ‘প্রত্যেক হল ডিবেটিং ক্লাব থেকে একজন করে ভোটার ভোট দিতে পারবেন। হল ডিবেটিং ক্লাব ভোটারের নাম চূড়ান্ত করে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ঘোষিত নির্দিষ্ট দিনে ডিইউডিএস কার্যালয়ে জমা দিবে। ভোটারের নাম প্রেরণের কাগজে অবশ্যই হল প্রাধ্যক্ষ বা মডারেটরের স্বাক্ষর থাকতে হবে। ছাত্রত্ব থাকা সাপেক্ষে ভোটারকে স্ব স্ব ডিবেটিং ক্লাব থেকে নির্বাচিত হয়ে আসতে হবে’।
  
রোকেয়া হল বিতর্ক অঙ্গনের বর্তমান কমিটির এক বিতার্কিক অভিযোগ করেন, হল প্রাধ্যক্ষ জিনাত হুদা ক্লাবের কাউকেই না জানিয়ে একক সিদ্ধান্তে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বাহিরে ‘সৌমি সপ্তপর্ণা নাথ’ নামে একজনকে ভোটার হিসেবে মনোনীত করেছেন। 

তিনি দাবি করেন, যে চিঠির মাধ্যমে তিনি মনোনয়ন দিয়েছেন সেটি আসল নয়। বরং উিইউডিএসের কক্ষ থেকে কয়েকটি চিঠি হারানো গিয়েছিল। পরে সেসব চিঠি বাতিল করে নতুন করে চিঠি অনুমোদন করা হয়েছে।

চিঠি হারানোর বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ডিইডিএসের নির্বাচন কমিশনার এসএম রাকিব সিরাজী। তিনি জানান, ‘রোকেয়া হল থেকে পাওয়া চিঠিতে হল প্রশাসনের প্রধান নিয়ম বহির্ভূতভাবে একজনকে মনোনয়ন দিয়েছেন।’ 

পরে কমিশন থেকে চিঠিটি ফেরত পাঠানো হলে ‘রোকেয়া হল ক্লাবে বর্তমানে কোনো কমিটি নেই’ জানিয়ে হল প্রাধ্যক্ষ সপ্তপর্ণাকেই মনোনয়ন দিয়ে আবারও চিঠি পাঠান। ওই চিঠির বিষয়ে রাকিব সিরাজী বলেন, ক্লাবের কোনো কমিটি না থাকলে সংগঠনের গঠনতন্ত্রে এর বাহিরের কাউকে মনোনয়ন দেওয়ার বিধান নেই। মনোনীতকে ক্লাবের মাধ্যমেই নির্বাচিত হয়ে আসতে হবে। সেক্ষেত্রে রোকেয়া হলের ভোটার ছাড়াই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে জানান তিনি।  

এদিকে, রোকেয়া হলের ওই বিতার্কিক আরও অভিযোগ করেন, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির নাট্য ও বিতর্ক বিষয়ক উপ-সম্পাদক ও ডাকসুর সাহিত্য সম্পাদক মাযহারুল কবির শয়নের পরামর্শে হল প্রাধ্যক্ষ এই কাজ করেছেন। শয়ন তার বান্ধুবী ইশরাত জাহান নুর ইভাকে ডিইউডিএসের সভাপতি করতে উঠেপড়ে লেগেছেন। এর আগে, রোকেয়া হল বিতর্ক অঙ্গনের নতুন কমিটি দেওয়ার সময় সেখানে তিনি তার অনুগত সৌমি সপ্তপর্ণাকে সভাপতি করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বিতার্কিকদের বাধায় সেটা পারেননি। নতুন কমিটিকে মডারেটর অনুমোদন দিলেও অনেকবার যোগাযোগ করা হলেও হল প্রাধ্যক্ষ জিনাত হুদা এখনও অনুমোদন দেননি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাজহারুল কবির শয়ন বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না, এটাই আমার বক্তব্য।’
 
এদিকে, ভোটার মনোনয়ন দেওয়ার ব্যাপারটি জানতেন কিনা- এ বিষয়ে জানতে রোকেয়া হল বিতর্ক ক্লাবের মডারেটর ড. রুমানা ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেয়া হলে তিনি রিসিভ করেননি। তবে, ডিইউডিএসের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার তাওহিদা জাহান জানান, ‘আমরা এখনও এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিইনি। নির্বাচন কমিশনের সদস্যদের সঙ্গে বসে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিব।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে রোকেয়া হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক জিনাত হুদার মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেয়া হলেও তিনি সাড়া দেননি।

এদিকে, সোমাবার দুপুর সোয়া বারোটায় বিতর্ক সংসদের বার্ষিক সাধারণ নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবিতে সংসদের সাধারণ বিতার্কিকবৃন্দ ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিতর্ক সংসদের উপদেষ্টা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, রোকেয়া হল বিতর্ক ক্লাব গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কাজ করবে। সেখানে বিভিন্ন ধরনের ব্যাখ্যা আসবে কেন। শিক্ষার্থীদেরকে মডারেটরের সঙ্গে কথা বলে রীতি-নীতি, ঐতিহ্য অনুসরণ করে কাজ করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এখানে দুষ্ট চক্রের কাজ করার সুযোগ নেই বলেও জানান উপাচার্য। 


বিডি-প্রতিদিন


ক্যাটেগরিঃ শিক্ষা,
ট্যাগঃ ঢাবির রোকেয়া হল বিতর্ক ক্লাবে ‘নিয়মবহির্ভূত হস্তক্ষেপে’র অভিযোগ
বিভাগঃ ঢাকা
ঢাকা মেট্রো নিউজ


আরো পড়ুন