প্রকাশঃ Wed, Sep 11, 2019 4:28 PM
আপডেটঃ Mon, Sep 16, 2019 11:48 PM


দুদকের তলবে গিয়ে সরকারি টাকায় চবি শিক্ষকদের ভূরিভোজ

অনলাইন ডেস্ক

দুদকের তলবে গিয়ে সরকারি টাকায় চবি শিক্ষকদের ভূরিভোজ

দুদকের তলবে নিজেদের বক্তব্য দিতে গিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) কয়েকজন শিক্ষক কর্মকর্তা হোটেলে দুপুরের খাবার খেয়ে বিল করেছেন ৫ হাজার ৩৯৬ টাকা। আর এই বিলের টাকা দেয়া হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাগার থেকেই।

    

গত ২২ আগস্ট চট্টগ্রাম নগরীর আগ্রাবাদের একটি হোটেলে এত টাকার খাবার খান ওই শিক্ষক কর্মকর্তারা। এ সংক্রান্ত হোটেলের বিল এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ও হিসাব নিয়ামকের স্বাক্ষর সম্বলিত ভাউচারের কপি দৈনিক শিক্ষাডটকমের হাতে রয়েছে।

ভাউচারে এ বিলকে জনবল নিয়োগ সভার আপ্যায়ন বিল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে লেখা আছে, ‘গত ২২.০৮.২০১৯ ইং তারিখে দুর্নীতি দমন কমিশন সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-১ কর্তৃক আয়োজিত চ.বি এর বিভিন্ন দপ্তরে জনবল নিয়োগ সম্পর্কিত সভার আপ্যায়ন বিল- ৫৩৯৬ টাকা।’ আরো বলা হয়- ‘এ বিল পরিশোধ করেন হিসাব নিয়ামক (ভারপ্রাপ্ত)।’

রেজিস্ট্রারের সীল ও স্বাক্ষরযুক্ত ভাউচারের নিচে- অনুমোদন করা যেতে পারে লিখে স্বাক্ষর করেন উপ হিসাব নিয়ামক মো. আমিনুল ইসলাম।

এছাড়া হোটেলের বিলে সাদা ভাত- ১০০০টাকা, কোরাল মাছ- ৯২০টাকাসহ ১০ পদের খাবারের বিল বাবদ মোট ৫ হাজার ৩৯৬ টাকা বলে উল্লেখ করা হয়।
 
জানা গেছে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ অনুসন্ধানে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার, ডিন, সাবেক প্রক্টরসহ ৮ শিক্ষক, ৩ কর্মকর্তা এবং ৩৫ কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-১ এর সহকারী পরিচালক মো. ফখরুল ইসলামের সই করা এক অফিস আদেশে এসব শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে আগস্টের নির্ধারিত সময়ে দুদক কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে অভিযোগ অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তার কাছে নিজেদের বক্তব্য দিতে বলা হয়।

২২ আগস্টে দুদকের তলব করা ৮ শিক্ষকের মধ্যে রয়েছেন, সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. ফরিদ উদ্দিন আহামেদ, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. এএফএম আওরঙ্গজেব, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও বিজ্ঞান ওয়ার্কশপের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. শফিউল আলম, সাবেক প্রক্টর অধ্যাপক মো. আলী আজগর চৌধুরী।

আরো আছেন, শাহ আমানত হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক মো. গোলাম কবীর, ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের সভাপতি ড. মো. সুমন গাঙ্গুলী, ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্সেস এর পরিচালক মো. জাহেদুর রহমান এবং পরিবহন দফতরের প্রশাসক অধ্যাপক ড. মো. রাশেদ উন নবী।

আর ৩ কর্মকর্তা হলেন, রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) কেএম নুর আহমদ, হিসাব নিয়ামক (ভারপ্রাপ্ত) মো. ফরিদুল আলম এবং উপাচার্য দফতরের ডেপুটি রেজিস্ট্রার (কম্পিউটার) মো. জাহাঙ্গীর আলম।

উল্লেখ্য, সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরীর উপাচার্য হিসেবে দায়িত্বপালনের শেষ সময়ে এসে ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারী পদে ১৪২ জনকে নিয়োগ প্রদানের জন্য গঠিত সিলেকশন বোর্ডে এসব শিক্ষক, কর্মকর্তা সিলেকশন বোর্ডের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

অপরদিকে ওই সময়ে নিয়োগ পাওয়া ৩৫ কর্মচারীকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-১ এর সহকারী পরিচালক মো. ফখরুল ইসলামের কাছে উপস্থিত হয়ে অভিযোগের বিষয়ে তিন ধাপে তাদের বক্তব্য দিতে হয়।

প্রথম ধাপে ১৯ আগস্ট মু. আলীমুল্লাহ, মো. শওকত জাহান পাপন, কায়সার হামিদ, তিন্নী সূত্রধর, মো. সুমন, নিশাত মিত্র, মুশফিক আহমেদ চৌধুরী, তাওহীদুল ইসলাম, নাজমুস সাআদাত সাকিব, মো. তৌহিদুল আজিম, মো. জামশেদ আলম, শাহীন আক্তারসহ ১২ জন বক্তব্য দেয়।

দ্বিতীয় ধাপে ২০ আগস্ট  মো. মনজুর মিয়া, জিন্নাত রেহেনা, মো. রেজাউল করিম, তাছলিমা আক্তার, মহিউদ্দিন রনি, মো. নাঈম উদ্দীন, মো. তানজীম হোসেন, মো. শহিদুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান, মাসুদুর রহমান, মো. রাকিব উদ্দিন, মো. সাখাওয়াত হোসেনসহ ১২ জন বক্তব্য দেয়।

আর তৃতীয় ধাপে ২১ আগস্ট মনসুর আলী, মো. ইব্রাহিম খলিল, মো. ওসমান, মানিক চন্দ্র দাস, আব্দুল শুক্কুর, ইফফাত ফাতেমা, মো. মিজানুর রহমান, মু. শহিদুল আলম, মো. আমতারুল হক, এসএম আলাউদ্দিন এবং রাশেদা বেগমসহ ১১ জন বক্তব্য দেয়।

এর আগে দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-১ এর উপ-পরিচালক লুৎফুল কবির চন্দন জানান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও বিধি বহির্ভূতভাবে ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারী পদে ১৪২ জনকে নিয়োগ দেয়ার অভিযোগ এসেছে। অভিযোগ অনুসন্ধানে চবির ৪৬ শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং তাদের বক্তব্য নেয়ার জন্য ডাকা হয়।

প্রসঙ্গত, ইউজিসির নির্দেশনা উপেক্ষা করে গত বছরের ডিসেম্বরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫১৯তম সিন্ডিকেট সভায় ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারী পদে ১৪২ জনকে নিয়োগের অনুমোদন দেওয়া হয়। নানা অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কৃত, অস্ত্রধারী, এমনকি চাকরির জন্য আবেদন না করা ব্যক্তিকেও ওই সময়ে নিয়োগ দেওয়া হয় বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়।

দৈনিক শিক্ষা


ক্যাটেগরিঃ শিক্ষা,
ট্যাগঃ দুদকের তলবে গিয়ে সরকারি টাকায় চবি শিক্ষকদের ভূরিভোজ
বিভাগঃ চট্টগ্রাম
ঢাকা মেট্রো নিউজ


আরো পড়ুন