প্রকাশঃ Thu, Aug 8, 2019 6:12 PM
আপডেটঃ Sat, Nov 30, 2019 10:40 PM


রাজশাহীতে রেকর্ড ভেঙেছে বিদ্যুতের লোডশেডিং

অনলাইন ডেস্ক

রাজশাহীতে রেকর্ড ভেঙেছে বিদ্যুতের লোডশেডিং

রাজশাহীতে বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের মাত্রা অতীতের সব রেকর্ড ভঙ করেছে। মাত্রাতিরিক্ত লোডশেডিংয়ে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। দিনে-রাতে অন্তত ৭ থেকে ৮ বার চলছে বিদ্যুতের যাওয়া আসা। ফলে গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন মানুষ। 

বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ বলছে, তেমন লোডশেডিং নেই। যেটুকু হচ্ছে, সেটা লাইন সংস্কারের জন্য। তবে বিদ্যুৎ সরবরাহ সংস্থা নেসকোর এমন কথা মানতে নারাজ নগরবাসী। নগরবাসী বলছেন, রাতেও বিদ্যুতের লাইন মেরামত বা সংস্কার হয় নাকি? তাহলে রাতে কেন এতো লোডশেডিং? এতে জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে। বিদ্যুতের এমন লোডশেডিংয়ের বিষয়ে খোঁজ নিতে বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের সচিবকে ফোনও করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরে রাজশাহীজুড়ে বিদ্যুতের ভেলকিবাজি লেগেই আছে। পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। দিন-রাত উভয় সময়েই বিদ্যুতের লোডশেডিং হচ্ছে সমানতালে। একদিকে প্রচণ্ড গরম, অন্যদিকে বিদ্যুতের লোডশেডিং। দুইয়ে মিলে মানুষ ভোগান্তির মধ্যে পড়েছেন। এনিয়ে নেসকোর গ্রাহকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। বছরের অন্য সময়ে গ্রামাঞ্চলে সেচ সুবিধা দেওয়ার জন্য বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহ দেওয়ার কথা বলা হলেও বর্ষা মৌসুমে এমন সুযোগ নেই। তারপরও লোডশেডিং। 

গত দেড় মাস ধরে নগরীতে অসহনীয়ভাবে লোডশেডিং চলছে। এখন সেই লোডশেডিং উপজেলা পর্যায়েও চলছে। দিনরাত মিলিয়ে ৭ থেকে ৮ বার বিদ্যুতের লোডশেডিং হচ্ছে। কখনও কখনও এক থেকে দেড় ঘণ্টা আবার আরও বেশি সময় বিদ্যুৎ অফ থাকে। ফলে একদিকে মানুষ যেমন গরমে কষ্ট পাচ্ছেন; অন্যদিকে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনীয় জিনিস ফটোকপি বা কম্পোজ করতে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকছে। এছাড়াও অফিস-আদালতের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সময়মত ফটোকপি করতে না পারায় বিপাকে পড়তে হচ্ছে। 

নগরীর টিকাপাড়া এলাকার রাব্বি নামের এক বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, বিদ্যুৎ যেভাবে আসছে-যাচ্ছে তাতে মনে হচ্ছে নেসকো থেকে বিল নেবে না। তারা জনগনকে ফ্রি সার্ভিস দিচ্ছেন। যখন ইচ্ছা তখন বিদ্যুৎ টেনে নিচ্ছেন। এভাবে চলতে পারে না। এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। খতিয়ে দেখা দরকার বিদ্যুতের এত লোডশেডিং কেন হচ্ছে?

আব্দুল্লাহ নামের আরেক ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন, দিনরাত মিলিয়ে ৮ থেকে ১০ বারের বেশি সময় ধরে লোডশেডিং হচ্ছে। টাকা দিয়ে কেনা বিদ্যুতের এমন হাল হবে কেন? বর্ষা মৌসুমে বিদ্যুতের এত লোডশেডিং মেনে নেওয়ার মত নয়। এদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ আদায় করতে হবে। নগরীর হড়গ্রাম এলাকার সাইফ নামের একব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন, এ এলাকায় আরও বেশি বিদ্যুতের লোডশেডিং হচ্ছে। লোডশেডিংয়ের মধ্যে পড়ে ব্যাপক সমস্যা হচ্ছে।

ইতিমধ্যে বিদ্যুতের স্বাভাবিক সরবরাহে এক মাসের আল্টিমেটাম দিয়েছে রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ। পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জামাত খান বলেন, রাজশাহী অঞ্চলে বিদ্যুতের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে নেসকো বিদ্যুৎ নিয়ে যা ইচ্ছে করছে। 

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে নেসকোর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (দায়িত্বপ্রাপ্ত) শিরিন ইয়াসমিন বলেন, কাটাখালী গ্রীড থেকে দুইটি ট্রান্সফারের মাধ্যমে নেসকো বিদ্যুৎ পায়। কিন্তু গ্রীড থেকে ঠিকভাবে তাদের বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে না। সঞ্চালন লাইনে বড় ধরনের ত্রুটি দেখা দিয়েছে। সেটির মেরামত কাজ চলছে। সঞ্চালন লাইনটি দীর্ঘদিনের, তাই সংস্কারে কিছুটা সময় লাগছে। যার প্রভাব শুধু নগরী নয়, পল্লী বিদ্যুৎ এলাকাতেও পড়েছে। কবে নাগাদ সংস্কার শেষ হবে, সেটি জানা নেই বলে দাবি করেন এই প্রকৌশলী।

উল্লেখ্য, রাজশাহীতে বিদ্যুতের চাহিদা ১০০ মেগাওয়াট। জাতীয় গ্রীড থেকে সরবরাহ আছে চাহিদা অনুযায়ী।

বিডি প্রতিদিন


ক্যাটেগরিঃ দেশগ্রাম,
ট্যাগঃ রাজশাহীতে রেকর্ড ভেঙেছে বিদ্যুতের লোডশেডিং
বিভাগঃ রাজশাহী
ঢাকা মেট্রো নিউজ


আরো পড়ুন