.
.
প্রকাশঃ Mon, Jun 10, 2019 7:32 PM
আপডেটঃ Wed, Oct 23, 2019 9:02 PM


বন্ধুত্বের সম্পর্কের সূত্র ধরে নারায়ণগঞ্জে পৃথক ঘটনায় ধর্ষণ ও গণধর্ষণ

অনলাইন ডেস্ক

বন্ধুত্বের সম্পর্কের সূত্র ধরে নারায়ণগঞ্জে পৃথক ঘটনায় ধর্ষণ ও গণধর্ষণ

প্রথমে বন্ধুত্ব। এরপর প্রেম। পরে বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে ঘনিষ্ঠতা। আবার কখনো বন্ধুর বাড়িতে দাওয়াতে গিয়ে গণধর্ষনের শিকার হচ্ছেন তরুণী ও যুবতীরা। সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জে পৃথক দু'টি ঘটনায় বন্ধুত্বের সম্পর্কের সূত্র ধরেই একটি ধর্ষণ ও অপর একটি গণধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে।  

একটি ঘটনায় বন্ধুর সঙ্গে বান্ধবীর বাড়িতে এসে গণধর্ষণের শিকার হয়েছে এক যুবতী ও অপর ঘটনায় চট্টগ্রাম থেকে বন্ধুত্বের সূত্র ধরে দেখা করতে নারায়ণগঞ্জে এসে ধর্ষণের শিকার হয়েছে অপর এক তরুণী। এ ঘটনায় থানা পুলিশের বিরুদ্ধে উৎকোচের বিনিময়ে ধর্ষককে ছেড়ে দেয়ার অভিযোগও উঠেছে। 

জানা গেছে, গত শুক্রবার বিকেলে সিদ্ধিরগঞ্জের কদমতলী এলাকার এক নারী পোশাক শ্রমিক (১৮) বন্ধু শামীমকে নিয়ে ফতুল্লা ধর্মগঞ্জ আরাফাত নগরে মৌসুমী নামে তার এক বান্ধবীর বাড়িতে বেড়াতে আসে। সন্ধ্যার পর তিনজন মিলে ফতুল্লার বক্তাবলীতে বুড়িগঙ্গার তীরে ঘুরতে যায়। ওই সময়ে ৬ থেকে ৭ জন তাদেরকে আটক করে বক্তাবলীতে একটি ইটভাটায় নিয়ে যায়। সেখানে শামীমকে আটকে রেখে ওই তরুণীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। তবে সঙ্গে থাকা বান্ধবী মৌসুমী ছিল অক্ষত। 

এরপর ধর্ষকেরা ওই নারী পোশাক শ্রমিককে মৌসুমীর বাড়িতে আটক করে তার পরিবারের কাছে মুক্তিপণ হিসেবে ৪০ হাজার টাকা দাবি করে। এতে পোশাক শ্রমিকের মা সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি জিডি করেন। ওই জিডির সূত্রধরে গতকাল রবিবার দুপুরে মৌসুমীর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকেসহ আরও এক যুবককে আটক করে পুলিশ। উদ্ধার করা হয় তরুণী ও তার বন্ধু শামীমকে।

ফতুল্লা মডেল থানার ওসি আসলাম হোসেন জানান, ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য ওই নারী পোশাক শ্রমিককে ১০০ শয্যা বিশিষ্ট নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় দুইজনকে আটক করা হয়েছে। বিষয়টির তদন্ত চলছে।

অপর ঘটনায় রবিউল ইসলাম সামী (২৪) নামে ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত যুবককে আটক করেও ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সদর মডেল থানা পুলিশের এক এসআইয়ের বিরুদ্ধে। ধর্ষণের শিকার তরুণীর দাবি, মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে ধর্ষককে আটক করেও ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

জানা যায়, গত ৭ জুন শুক্রবার রাত পৌনে নয়টার দিকে শহরের উকিলপাড়া একটি পরিবহন বাস কাউন্টার থেকে ধর্ষণের শিকার তরুণী ও ধর্ষক অভিযোগে অভিযুক্ত যুবককে আটক করে সদর মডেল থানার এসআই সাইফুল। পরে ধর্ষিতাকে থানায় রেখে অভিযুক্ততে কৌশলে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে ওই তরুণী। এ ঘটনায় তরুণী বাদী হয়ে রবিউল ইসলাম সামীকে অভিযুক্ত করে সদর মডেল থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছেন। সামী মুন্সিগঞ্জ জেলার ফুলতলা এলাকার নূরুল হক বেপারীর ছেলে। সে একজন গার্মেন্টস কর্মী।

এদিকে, সদর মডেল থানা পুলিশ আজ সোমবার দুপুরের দিকে তরুণীর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন করে নারায়ণগঞ্জের একটি আদালতে পাঠালে সেখানে সে ২২ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করেছে।

অপরদিকে, অভিযুক্ত এসআই সাইফুল ইসলাম দাবি করেছেন, তিনি ধর্ষক অভিযোগে অভিযুক্ত সামীকে ঘটনাস্থলে পাননি। পরে অভিযুক্তের মা থানায় এসেছিলেন। কিন্তু তিনি কৌশলে খাবারের কথা বলে পালিয়ে যান।

জানা যায়, উপস্থিত অনেকেই দাবি করেছেন, ঘটনার সময় তরুণ ও তরুণী দুজনের মধ্যেই চিৎকার চেঁচামেচি হচ্ছিলো ওই বাস কাউন্টারে। ছেলেটি মেয়েটিকে এক প্রকার জোর করেই চট্টগ্রামের বাসে উঠিয়ে দিতে গেলে দুজনের মধ্যে বাদানুবাদ হয়। এক পর্যায়ে ঘটনাস্থলে এসআই সাইফুলের নেতৃত্বে একদল পুলিশ উপস্থিত হন এবং উভয়কে আটক করেন।

তরুণী জানিয়েছে, ৬ মাস আগে চট্রগ্রামে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে পরিচয় হয় রবিউল ইসলাম সামীর সাথে। সেখানে তারা একে অপরের সাথে মুঠোফোন নম্বর আদান-প্রদান করেন। পরে দুজনের মধ্যে বন্ধুত্ব থেকে প্রেম শুরু হয়। এর সূত্র ধরে বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সামী ওই তরুণীকে চট্টগ্রাম থেকে নারায়ণগঞ্জে নিয়ে আসে। শুক্রবার তরুণী সাইনবোর্ড এলাকায় এসে নামলে সামী তাকে গ্রহণ করে।

তরুণীর দাবি, সাইনবোর্ড থেকে সামি তাকে একটি বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে তার ইচ্ছের বিরুদ্ধে সম্পর্ক স্থাপন করে সামী। পরে এদিন রাতে (শুক্রবার) এক প্রকার জোর করে তাকে চট্টগ্রামের বাসে উঠিয়ে দিতে শহরের উকিল পাড়া বাস কাউন্টারে নিয়ে আসে। সে বিয়ে ছাড়া চট্টগ্রামে ফিরবে না জানালে এ নিয়ে দুজনের মধ্যে বাগবিতন্ডা হয়। এক পর্যায়ে লোকজন জড়ো হলে থানায় খবর দেওয়া হলে পুলিশ আসে এবং সামীসহ তাকে আটক করে। কিন্তু পরবর্তীতে সামীকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।

এদিকে, সদর মডেল থানা পুলিশের অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) মো. কামরুল ইসলাম সামীকে ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, ভিড়ের মধ্যে সামী পুলিশ দেখেই পালিয়েছে। মেয়েটিকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয় এবং ধর্ষণ মামলা গ্রহণ করা হয়েছে।

বিডি-প্রতিদিন


ক্যাটেগরিঃ অপরাধ-ক্রাইম,
ট্যাগঃ বন্ধুত্বের সম্পর্কের সূত্র ধরে নারায়ণগঞ্জে পৃথক ঘটনায় ধর্ষণ ও গণধর্ষণ
বিভাগঃ ঢাকা
জেলাঃ নারায়ণগঞ্জ
ঢাকা মেট্রো নিউজ


আরো পড়ুন