প্রকাশঃ Wed, Apr 18, 2018 10:54 AM
আপডেটঃ Fri, Jun 5, 2020 10:39 AM


থেমে নেই বাল্যবিয়ে ॥ পাত্রস্থ করতে পারলেই যেন স্বস্তি

অনলাইন ডেস্ক

থেমে নেই বাল্যবিয়ে ॥ পাত্রস্থ করতে পারলেই যেন স্বস্তি

ওয়াজেদ হীরা ॥ এগিয়ে যাচ্ছে দেশ। প্রযুক্তির উৎকর্ষতায় গড়ে উঠছে আগামীর আধুনিক বাংলাদেশ। আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে ইট পাথরের শহর থেকে প্রত্যন্ত অঞ্চলের গ্রামীণ পরিবেশেও। আধুনিকতার ছোঁয়া লাগলেও চিন্তা চেতনায় অনেকে মধ্যে আসেনি আধুনিকতা। অনেক ক্ষেত্রে আসেনি সচেতনতাও। বিশেষ করে প্রত্যন্ত গ্রামে এখনও লিঙ্গ বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। জেনে বা না জেনে সম্পন্ন হচ্ছে বাল্যবিয়ে। বিয়ে দিতে পেরেই যেন স্বস্তি পান বাবা মা বা স্বজনরা! ফলে গ্রামে গ্রামে আড়ালে এখনও চলছে বাল্যবিয়ে।

স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে কিছু বিয়ে ঠেকানো গেলেও অধিকাংশই রয়ে যায় আড়ালে। আর নিরবে সম্পন্ন হওয়া বিয়ের মাধ্যমে দুরন্ত কিশোরীপনা বয়সেই ভেঙে যাচ্ছে নানান রঙিন স্বপ্ন। বিয়ে নামের সম্পর্কটি বুঝতে না বুঝতেই পা রাখছে বৈবাহিক জীবনে। সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, বাল্যবিয়ে ঠেকাতে সর্বস্তরে সচেতনতা আর স্ব স্ব অবস্থান থেকে সবাইকে এগিয়ে আসার কথা। এছাড়াও ইতোমধ্যেই অনেক সচেতনতা এসেছে বলেও মত সংশ্লিষ্টদের।

বরগুনার আমতলী উপজেলার দক্ষিণ রাওঘা গ্রামের মজনু গাজীর মেয়ে আশামনি (১৩)। নিজেই নিজের বাল্যবিয়ে ঠেকিয়েছে ১৩ বছরের এই কিশোরী। সে দক্ষিণ রাওঘা নুর-আল-আমিন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী। গত ১০ এপ্রিল অনন্যোপায় হয়ে আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে নিজের বাল্যবিয়ের কথা জানায় সে। ব্যবস্থা নেন ইউএনও। এক পর্যায়ে আশা মনির বাবা-মা তাদের ভুল বুঝতে পেরে মেয়ের বিয়ের আয়োজনের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া হাতেম আলী বালিকা বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্রী ফারজানা আক্তার (১৪)। স্কুলের গ-ি না পেরুলেই বিয়ে নিয়ে ব্যস্ত হয় পরিবার। কিন্তু এই স্কুলছাত্রী নিজের বুদ্ধি আর সাহসিকতা দিয়ে সম্প্রতি এলাকায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। জানা গেছে, আড়াল থেকে বিয়ের দিনক্ষণের কথা শুনে স্কুলের অন্য সহপাঠীর পরামর্শে লিখিত অভিযোগ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে। পরে বন্ধ হয়ে যায় সেই বিয়ে।

ফারজানা আক্তার বা আশামনির মতো গ্রাম বা শহরের অনেক মেয়েই এমন প্রতিবাদী হয় না। আবার অনেকেই ইচ্ছা থাকলেও উপায় থাকে না। নিজের মত বা অমতে তাদের অল্প বয়সেই বিয়ে হয়ে যায়। আর সেই বাল্যবিয়ের প্রভাব গোটা জীবনই বয়ে বেড়াতে হয়। অনেক সময় বিভিন্ন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বা জনপ্রতিনিধির হস্তক্ষেপ করতে হয় এসব বাল্যবিয়ে বন্ধ করতে। তবে এর জন্য সবার মধ্যে সচেতনতা তৈরি খুবই জরুরী বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত মেয়েদের বাধ্যতামূলক শিক্ষা নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলেও মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

কমপক্ষে অর্ধশত কেসস্টাডি করে দেখা গেছে, এসব বাল্যবিয়ের ক্ষেত্রে অধিকাংশ সময়ই অভিভাবক বাবা-মা বেশি উৎসাহী বা আগ্রহী থাকেন। বাবা মা মনে করেন মেয়েদের স্বামীর বাড়িতে সারাজীবন ভাত রান্না করে চুলা জ্বালিয়ে খেতে হবে তাই খুব বেশি পড়াশোনার প্রয়োজন নেই। অনেক সময় বাবা মা মেয়ের নিরাপত্তার বিষয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে তাড়াতাড়ি বিয়েতে মত দেন। কেননা, তারা মনে করেন বিবাহিত মেয়ে নিরাপদ। কোন অপবাদ বা কোন অঘটন ঘটার আশঙ্কা কম। এছাড়াও অল্প বয়সে মেয়েদের বিয়ে দিতে অন্যান্য স্বজনও বেশ উৎসাহিত করেন এমনকি মেয়েদের ক্ষেত্রে অধিক শিক্ষা গ্রহণে নিরুৎসাহিত করেন। আইসিডিডিআরবি ও প্ল্যান ইন্টারন্যাশনালের একটি গবেষণায় দেখা যায়, বাল্যবিয়ের মূল কারণগুলো হচ্ছে, দরিদ্রতা, নিরাপত্তার অভাব, পারিবারিক সমস্যা, বয়স বাড়লে যৌতুক বেড়ে যাওয়া, ধর্মীয় বিশ্বাস, সামাজিক চাপ, আইন না জানা, বেকারত্ব ইত্যাদি।

বিশেষজ্ঞদের মতে অল্প বয়সে বিয়ে জরায়ুমুখে ক্যান্সারের অন্যতম কারণ। কেননা এই বয়সে মেয়েদের জরায়ু মুখের কোষ পরিপক্ক হওয়ার আগেই স্বামীর সঙ্গে মিলিত হতে হয়। এতে কোষগুলোতে বিভিন্ন ইনফেকশন হয়ে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। সন্তান জন্মদান, লালন-পালন, পরিবারের দেখভাল ইত্যাদি এসব কিশোরী বধূ ভাল ভাবে করতে পারে না। এজন্য দেখা দেয় নানা জটিলতা।

২০১৮ সালের মার্চ মাসেই বহু বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ করতে সক্ষম হয়েছেন স্থানীয় প্রশাসন। তবে কিছু বাল্যবিয়ে বন্ধ করতে পারলেও যথাযথ তথ্যে অভাবে বা আড়ালে অনেক কিশোরীকেই হয় তো ঠেলে দেয়া হয়েছে।

অল্প বয়সেই বৈবাহিক জীবনযুদ্ধে। গত ২৬ মার্চ সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও, ভারপ্রাপ্ত) আনিসুর রহমানের হস্তক্ষেপে বাল্যবিয়ের হাত থেকে রক্ষা পায় আয়েশা আক্তার (১৪) নামে সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী। ইউএনও আনিসুর রহমান জানান, প্রবাসী এক ছেলের সঙ্গে আয়েশার বিয়ের (বাল্যবিয়ে) প্রস্তুতি চলছিল এমন খবরে পুলিশ নিয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজী ও বরকে আটক করেন। এ সময় কনের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে বিয়ে বন্ধ করে দেয়া হয়। এরপর কাজী ও বরকে মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

১৩ ও ১৪ মার্চ টাঙ্গাইয়ের মির্জাপুরে খবর পেয়ে দুটি বাল্যবিয়ে বন্ধ করেন নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) ইসরাত সাদমীন। ১৩ মার্চ আড়াইহাজার উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুরাইয়া খানের হস্তক্ষেপে বাল্যবিয়ের হাত থেকে বেঁচে গেছে ১৫ বছরের কিশোরী শেফালী আক্তার। গত ১১ মার্চ হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) হস্তক্ষেপে আফরোজা আক্তার নামে এক ছাত্রীর বাল্যবিয়ে বন্ধ হয়েছে। মেয়েটি এ বছর চুনারুঘাট অগ্রণী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। গত ১০ মার্চ সাতক্ষীরার শ্যামনগরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ কামরুজ্জামানের হস্তক্ষেপে বাল্যবিয়ের হাত থেকে রক্ষা পায় অষ্টম শ্রেণীর এক ছাত্রী। মেয়ের ১৮ বছর বয়স না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে দেবেন না মর্মে অভিভাবকদের কাছে থেকে মুচলেকা নিয়ে তিনি তাদের সতর্ক করে দেন।

প্রতিমাসেই দেশের কোন না কোন স্থানে আয়োজন হচ্ছে বাল্যবিয়ে। এলাকার সচেতন লোকজন কিংবা কেন মাধ্যমে স্থানীয় প্রশাসন বা জনপ্রতিনিধিদের কাছে খবর না আসলে হরহামেশাই বিয়ে সম্পন্ন হচ্ছে। অনেক গ্রামের জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে এই বিষয়ে বেশ অনিহা রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। একাধিক উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে যে কোন সচেতন নাগরিকই ভূমিকা রাখতে পারে। তারা অভিভাবকদের এর ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে আলোচনা করতে পারে। যদি তাতেও কাজ না হয় তবে স্থানীয় প্রশাসনকে জানাতে পারে। বাল্যবিয়ে ঠেকাতে স্ব স্ব অবস্থান থেকে সচেতনতা আর আগ্রহী হওয়া খুবই প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয় প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা।

এদিকে, বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত মেয়েদের বাধ্যতামূলক শিক্ষা নিশ্চিত করার সুপারিশ করেছে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ বিষয়ক সাব কমিটি। সম্প্রতি সংসদ ভবনে ইউএনএফপিএ এর আর্থিক সহায়তায় সংসদ সচিবালয়ের বাস্তবায়নাধীন জনসংখ্যা ও উন্নয়ন বিষয়ে সংসদের সক্ষমতা শক্তিশালীকরণ (এসপিসিপিডি) প্রকল্পের আওতায় গঠিত বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ সাব কমিটির সভায় এ সুপারিশ করা হয়।

কমিটির আহ্বায়ক এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি রেবেকা মমিনের সভাপতিত্বে গত ২৮ মার্চ অনুষ্ঠিত ওই সভায় উপস্থিত ছিলেন কমিটির সদস্য সেলিনা বেগম এমপিসহ সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট উর্ধতন কর্মকর্তাবৃন্দ। কমিটি জেন্ডার সহিংসতা বন্ধ ও বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ করার জন্য স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষক, অভিভাবক এবং শিক্ষার্থীদের নিয়ে সমাবেশ করারও সুপারিশ করে। সভা সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে। কমিটির সভাপতি রেবেকা মমিন বলেন, এ প্রকল্পের আওতায় সংসদ সদস্যরা বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখছেন। সরকারের পাশাপাশি সংসদ সদস্যরা এ ভূমিকা সরকারকে মূল উন্নয়নের লক্ষ্যে পৌঁছাতে সহায়তা করবে। এ সময় তিনি সকলকে যার যার অবস্থান থেকে এ বিষয়ে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান। সভায় বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ সাব কমিটির অধীনে স্থানীয় সরকারের জনপ্রতিনিধিদের ক্যাপাসিটি বিল্ডিং, জাতীয় পর্যায়ে এ্যাডভোকেসি প্লান তৈরি সংক্রান্ত কর্মসূচী বাস্তবায়ন এবং নিয়মিতভাবে সাব কমিটির মিটিং করার সুপারিশ করা হয়। সভায় বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ বিষয়ক সাব কমিটির কার্যক্রম উপস্থাপন করেন এসপিসিপিডি প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক এম এ কামাল বিল্লাহ।

বাল্য নিরোধ ২০১৭ আইনে অপ্রাপ্ত বয়স্ক বলতে ২১ বছরের নিচে পুরুষ আর ১৮ নিচে নারীদের বুঝানো হয়েছে। আইনে এটিকে একটি অপরাধ গণ্য করে বাল্যবিয়ে করলে শাস্তি হিসেবে অনধিক দুই বছর কারাদ- এবং অনধিক এক লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দ-ের কথা বলা আছে। বাল্যবিয়ে সংশ্লিষ্ট বাবা মা বা অন্যদের শাস্তির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদ- এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানার কথা রয়েছে। বাল্যবিয়ে কেউ পরিচালনা করলেও শাস্তির বিধান রয়েছে আইনে। তবুও থামানো যাচ্ছে না এই বাল্যবিয়ে। এদিকে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে ২০৩০ সালের মধ্যে মাতৃমৃত্যুর হার ৭০-এ কমিয়ে আনতে হবে। আর মাতৃমৃত্যুর অন্যতম কারণ এই বাল্যবিয়ে। তবে সরকার এসডিজি অর্জনের লক্ষ্যেই এগিয়ে যাচ্ছে মত সংশ্লিষ্টদের।

মহিলা ও শিশু মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন ও পরিকল্পনা উইং) জনকণ্ঠকে বলেন, বাল্যবিয়ে রোড লেবেলের কারণগুলো খুঁজে তা সমাধান হচ্ছে। সরকারের নানা কার্যক্রম চলমান আছে। মানুষের মধ্যে সচেতনতাও এসেছে। নারীদের আয়বর্ধক কাজে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। তাদের উন্নতি হচ্ছে ফলে কেউ তার সন্তানকে অল্প বয়সে বিয়ে দিতে চায় না। এখনও যা হচ্ছে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ আগামী দুই এক বছরে আরও দৃশ্যমান হবে। কেননা এখন মেয়েরা নিজেরাই অনেক ক্ষেত্রে এগিয়ে আসছে বলেও জানান তিনি।

সম্প্রতি এক রিপোর্টে জাতিসংঘ বলছে, সারাবিশ্বে বাল্যবিয়ের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমছে। জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ তার এক প্রতিবেদনে বলছে, গত এক দশকে পৃথিবীতে আড়াই কোটি বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে। ইউনিসেফের রিপোর্ট বলছে, বিশ্বজুড়ে গত এক দশকে বাল্যবিয়ে পনেরো শতাংশ কমে এসেছে। আর সবচেয়ে বেশি অগ্রগতি হয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে। ঢাকায় ইউনিসেফের একজন কর্মকর্তা সোনিয়া সরদারের মতে, নতুন এই রিপোর্টে তারা দেখছেন বাংলাদেশেও বাল্যবিয়ের হার কমছে। তিনি বলেন, বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে বাংলাদেশের গ্রামে-গঞ্জে এক ধরনের উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। অল্পবয়সী মেয়েরাও এখন তাদের বিয়ে প্রতিরোধে এগিয়ে আসছে। কিন্তু নারীদের অধিকার রক্ষায় কাজ করে এ রকম একাধিক সংস্থা মনে করেন এ বিষয়ে উল্লেখযোগ্য কোন অগ্রগতি হয়নি। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নীনা গোস্বামী গণমাধ্যমকে বলেছেন, যেটুকু অগ্রগতি হয়েছে সেটাও সম্ভব হয়েছে সরকারী ও বেসরকারী সংস্থাগুলোর দীর্ঘদিনের তৎপরতার কারণে। বাংলাদেশে বাল্য বিয়ের এই হার এখনও খুব বেশি বলে মনে করেন তিনি।

নারী ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকির সঙ্গে খুদেবার্তা ও ফোন দিয়েও যোগাযোগ করা যায়নি। তবে মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে জানিয়েছেন আমাদের কাজ নারী ও শিশুদের নিয়ে। তাদের জন্য ইতোমধ্যেই অনেক কাজ হয়েছে। তারই সক্ষম পাওয়া যাচ্ছে বলে মনে করেন কর্মকর্তারা। তবে বাল্যবিয়ে পুরোপুরি বন্ধ হয়নি সেমতও দেন। তবে সরকার এসব ক্ষেত্রে পরিকল্পনামাফিক এগুচ্ছে বলেও জানান।

দ্রুত এগিয়ে চলা বাংলাদেশের সঙ্গে তাল মেলাতে চায় এ যুগের কিশোরীরাও। এসব রুখতে শুধু বাধ্যবাধকতাই নয় পরিবারের বন্ধনের ওপর গুরুত্ব দেয়ার মত সংশ্লিষ্টদের।


ক্যাটেগরিঃ পাঠক কলাম,
ট্যাগঃ থেমে নেই বাল্যবিয়ে ॥ পাত্রস্থ করতে পারলেই যেন স্বস্তি
ঢাকা মেট্রো নিউজ


আরো পড়ুন