.
.
প্রকাশঃ Tue, Feb 26, 2019 9:43 PM
আপডেটঃ Thu, Sep 12, 2019 5:14 PM


কৈফিয়ত চেয়েছেন ড. কামাল

অনলাইন ডেস্ক

কৈফিয়ত চেয়েছেন ড. কামাল

নয় বছর আগে সরকারকে পুরানো ঢাকা থেকে ক্যামিক্যাল কারখানা সরিয়ে নিতে হাইকোর্ট আদেশ দিয়েছিলেন। ওই সময়ের মধ্যে সরকার কেন হাইকোর্টের আদেশের তোয়াক্কা না করে কোন প্রকার ব্যবস্থা গ্রহণ গ্রহণ করেননি তার কৈফিয়ত চেয়েছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন।

মঙ্গলবার ২৬ ফেব্রুয়ারি জাতীয় প্রেসক্লাবে গণফোরাম আয়োজিত চকবাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের স্বরণে নাগরিক শোকসভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. কামাল হোসেন বলেছেন, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দেওয়া সরকারের দায়িত্ব। চকবাজারের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সরকারের সেই দায়িত্বে অবহেলা ছিলো, এজন্য সরকার দায়ী। সরকারের দায়ভার কোনভাবে এড়ানোর সুযোগ নেই। অবশ্যই সরকারকে এর দায়ভার নিতে হবে।

প্রবীণ আইনজীবী বলেছেন, ৬৭,৮১ না ১০০-২০০ মানুষ মারা গেছে এটা নিয়ে পরে কথা হবে। এটা যে একটা ভয়াবহ একটা ঘটনা এবিষয়ে কোন সন্দেহ নেই। সরকারের অব্যবস্থাপনা মূলক আচরণের কারণেই এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর দায় সরকারকেই নিতে হবে।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে নাগরিক শোকসভায় বক্তব্য রাখেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. মঈন খান, জেএসডি সভাপতি আসম আব্দুর রব, গনস্বাস্থের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, গনফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু, কার্যকরী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, গণফোরাম নেতা অধ্যাপক আবু সাঈদ চৌধুরী প্রমুখ।

ডা. কামাল হোসেন আরো বলেন, তিনি বলেন, ৯ বছরে কোন সমাধান হয়নি। এখনো কিছুদিন আলোচনা চলবে, তারপর জনগণের চিন্তা যখন অন্যদিক যাবে তখন এটার আর কোন ব্যবস্থা নেওয়া হবে না।

জেএসডি সভাপতি আসম আব্দুর রব বলেন, কতজন মারা গেছেন তা আমি বলবো না। আমি একটা প্রশ্ন করতে চাই যাদের উপর জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা ছিলো তারা কি তা করেছে? তিনি বলেন, একটা রাষ্ট্রে এরকম একটা ট্রজিডির পর শোক জানানোর সিদ্ধান্ত নিতে ৫ দিন সময় লেগেছে। এদেশে কোন সরকার আছে বলে আমার মনে হয় না।

তিনি বলেন, সড়কে হাজার হাজার লাইসেন্স বিহীন গাড়ি চলছে। প্রতিদিন সড়কে মানুষ মরছে। আমি এগুলোকে দুর্ঘটনা বলবো না, আমি বলবো তাদের হত্যা করা হচ্ছে। সরকারের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনারা ২৯ ডিসেম্বর রাতে ১৬ কোটি মানুষের গায়ে আগুন লাগিয়েছেন, এই আগুন আপনাদের গায়েও লাগবে।

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে আসম রব বলেন, এদেশে আপনাদের ক্ষমতায় থাকার কোন অধিকার নেই। আপনারা খুনি। তিনি আরো বলেন, এই দেশে এখন কোন মন্ত্রীসভা নেই, একজন মহিলাই সব মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. মঈন খান বলেন, কয়েকদিন আগে আমরা দেখেছি একটি প্রহসনের নির্বাচন সরকার কিভাবে উৎসবের মাধ্যমে বরণ করেছে। সেই কোটি মানুষের ভোটাধিকার হরণ করা সরকারের কাছে জনগণের জীবনের কোন মূল্য নেই। তিনি বলেন, সবাই বলছে পুরান ঢাকা থেকে এসব কারখানা সরাতে হবে। আমি ভাবছি বিড়ালের গলায় ঘন্টা বাঁধবে কে? তারাতো জনগনের অধিকার হরণ করার মধ্য দিয়েই রাষ্ট্র ক্ষমতায় আছেন।

জনস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, জবাবদিহিতা ছাড়া কোন উন্নয়ন রাষ্ট্রের জন্য সফলতা আনে না। আমাদের প্রধানমন্ত্রী ২৯ ডিসেম্বর রাতে যে ম্যাজিক দেখিয়েছেন তাতে উনি খুব শিগ্রই পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ম্যাজিসিয়ান হিসেবে পুরস্কার পাবেন।

তিনি বলেন, চট্টগ্রামে নিরস্ত্র একজন মানুষিক ভারসাম্যহীন ছেলেকে জীবিত ধরতে পারেনি। কিভাবে ধরবে সরকারতো তার মত মানসিক ভারসাম্যহীন।

প্রধানমন্ত্রীকে মুরব্বিদের সন্মান দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মুরুব্বিদের সন্মান দেখালে আপনার বাবাকেই সন্মান দেখানো হবে। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনার যদি ক্ষমতা থেকে পদত্যাগ করতে লজ্জা লাগে তবে একটি বিচার বিভাগীয় তদন্ত করে দেখেন মানুষ আপনাকে কতটা ঘৃনার চোখে দেখেন।

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না আগের দুই শিল্প মন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, আপনারা উৎকোচ নিয়ে এইসব কারখানা স্থানান্তর না করে এখন একজন আরেক জনকে অভিযোগ করেন।

তিনি বলেন, আমরা জানি এই সরকার ভন্ড,প্রতারক,নির্লজ্জ। তারা জনগণের সাথে একের পর এক প্রতারণা করে চলছে। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু পৃথিবীর একজন বড় ও জনপ্রিয় নেতা কিন্তু যখন বাকশাল করেছিলেন তখন টিকতে পারেননি। আমি প্রধানমন্ত্রীকে বলবো একমাঘে আর দুইমাঘে শীত যায়না। আপনি সারাদেশের জনপ্রিয় নেত্রী বেগম জিয়াকে অন্যায়ভাবে আটক করে ক্ষমতায় থাকতে চান? এটা আপনি ভুল করেছেন। আপনার কর্মকাণ্ডের ফলাফল আপনি অবশ্যই পাবেন। সরকার চকবাজারের ক্যামিকেল কারখানা সরকার স্থানান্তরিত করবেনা বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

গণফোরাম সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু বলেন, আমরা এমন এক রাষ্ট্রে বসবাস করি যেখানে রাষ্ট্রের কর্মচারীরা রাষ্ট্র পরিচালক নির্ধারণ করে দেয়।

তিনি বলেন, নিমতলী ট্রাজিডির পর নয় বছরে এসব ক্যামিক্যাল কারখানা স্থানান্তর করা হয়নি। এটা সরকারের ব্যর্থতা, সরকারের ব্যর্থতার কারণেই চকবাজারে এত মানুষ মৃত্যুর শিকার হয়েছে।

তিনি বলেন, জনবিচ্ছিন্ন সরকারের দ্বারা জনমঙ্গল মূলক কাজ আশা করা আহম্ময়কের কাজ। তাই আসুন আমরা এই সরকারের বিরুদ্ধে ৫২,৬৯, ৭০,৭১, ৯০ এর মত প্রতিবাদী হয়ে রাজপথে আন্দোলন করে সরকারকে রাষ্ট্র ক্ষমতা থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করি।

গণফোরামের কার্যকর সভাপতি সুব্রত চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ একটি ট্রাজেডিতে পরিনত হয়েছেন। বিডিয়ার ট্রাজিডি, নিমতলী ট্রজিডি, চকবাজার ট্রাজেডি। তিনি বলেন, আমরা পাকিস্তানের বিপক্ষে নয় মাস যুদ্ধ করে স্বাধীনতা অর্জন করেছি। আজ এই অনির্বাচিত সরকার আমাদের কোন জায়গায় নিয়ে দাঁড় করিয়েছে। তিনি বলেন, সবকিছুতে সরকার বিএনপির সম্পৃক্ততা খুঁজে পান। আমার মনে হয় খুব শিগ্রই চট্টগ্রামে বিমান ছিনতাইয়ে সময় নিহত মাহাদীরও বিএনপির সাথে সম্পৃক্ততা খুঁজে পাবেন।

তিনি বলেন, রাষ্ট্র ক্ষমতা পরিচালনা করার কোন সক্ষমতা এই সরকারের নেই।

গণফোরাম নেতা অধ্যাপক আবু সাঈদ চৌধুরী বলেন, চকবাজার অগ্নিকাণ্ডের বিষয়ে মন্ত্রীরা যেসব কথা বলেছেন সেগুলো কথার কথা, কেউ দায়িত্ব নিতে চান নি। কিন্তু হাইকোর্ট বলছে কাউকে না কাউকে দায়িত্ব নিতে হবে।

তিনি বলেন, নিমতলী অগ্নিকাণ্ডের পর যে ব্যবস্থা গ্রহন করার কথা ছিলো সরকার তা করেনি।

নয়া দিগন্ত


ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি,
ট্যাগঃ কৈফিয়ত চেয়েছেন ড. কামাল
বিভাগঃ ঢাকা
ঢাকা মেট্রো নিউজ


আরো পড়ুন