প্রকাশঃ Sun, Aug 19, 2018 5:29 PM
আপডেটঃ Sat, Nov 16, 2019 9:56 AM


কোরবানির পূর্বে ও পরে সতর্কতামূলক দৃষ্টিভঙ্গি

অনলাইন ডেস্ক

কোরবানির পূর্বে ও পরে সতর্কতামূলক দৃষ্টিভঙ্গি

মোঃ মুজাহিদুল ইসলাম, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি: পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে ২২ আগস্ট। হিজরি জিলহজ মাসের ১০ তারিখে ঈদুল আজহা পালন করেন মুসলমানরা। এই ঈদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ পশু কোরবানি। যার যার সাধ্য অনুযায়ী পশু কোরবানি করে থাকেন মুসলমানরা। তবে কোরবানির পশু জবাইয়ের আগে ও পরে কিছু সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়। যা না করা হলে আমাদের কুরবানি যথাযথ না হওয়া এবং আমাদের পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। তাই আমাদের জানা উচিত কোরবানির জন্য পশু কেনা, কোরবানির আগে এবং পরে করণীয় নানা বিষয় সম্পর্কে। আসন্ন ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে আজ দেয়া হলো কোরবানির আগে-পরে করণীয় এবং বর্জনীয় সম্পর্কে কিছু তথ্য।
কোরবানির পশু ক্রয়ের পূর্বে লক্ষণীয় :
১. হালাল উপার্জন দিয়ে কোরবানির পশু ক্রয় করতে হবে। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের স্পৃহা এবং ওয়াজিব আদায়ের প্রেরণা মনে জাগ্রত করুন।
২. কোরবানিকে সুখ্যাতি ও প্রদর্শনেচ্ছার চিন্তা মন থেকে দূর করুন। কারণ কোরবানি মূলত আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষে করা হয়।
৩. পশু কোরবানির ক্ষেত্রে অংশিদার নির্বচন করতে হবে পশু ক্রয়ের পূর্বেই। কারন এটা মোস্তাহাব আমল।
৪. যার ব্যাপারে নিশ্চিত জানা আছে যে, তার উপার্জন হালাল নয় হারাম উপায়ে তাকে কোরবানির শরিকদার করবেন না।
৫. কোরবানি দেয়ার ইচ্ছা করলে, জিলহজ মাসের চাঁদ উঠার পূর্বেই নখ, চুল এবং অবাঞ্চিত পশম কেটে ফেলুন। এটাও মোস্তাহাব আমল।
কোরবানির পূর্বে করণীয় : 
১. গরু, মহিষের বয়স যেন দুই বছরের কম না হয়, উটের বয়স যেন পাঁচ বছরের কম না হয়, ছাগলের বয়স যেন এক বছরের কম না হয়। ছয় মাস বা তদূর্ধ্ব বয়সের ভেড়া, দুম্বা দেখতে যদি এক বছর বয়সের মতো মনে হয় তবে তা দ্বারা কোরবানি করা যাবে। গরু, মহিষ, উট ও ছাগলের জন্য বয়সের কোনো ছাড় নেই। যতই হৃষ্ট-পুষ্ট হোক নির্ধারিত বয়স পূর্ণ হতে হবে।
২. পশু কেনার সময় লক্ষ্য রাখতে হবে, আগে থেকেই গরুর চামড়ায় কোনো প্রকার গভীর ক্ষত চিহ্ন বা দাগ যেন না থাকে৷
৩. পশুর সেবা-যতœ করুন। অহেতুক পশুকে কোনো কষ্ট দেবেন না। পশু এমন স্থানে বাঁধুন- যেন পথচারীদের কষ্ট না হয়। পশুর গলায় ঘণ্টি বাঁধবেন না।
৪. কোরবানির জন্য ক্রয়কৃত পশুর ওপর আরোহণ করবেন না বা কোনো কাজে ব্যবহার করবেন না। 
৫. কোনো অবস্থাতেই কোরবানির পশুর প্রদর্শনী করবেন না। ভাগে কোরবানি দিলে ভাগিদার সবাইকে সবকাজে সঙ্গে রাখার চেষ্টা করুন।
৬. ঈদের দিন সকাল থেকেই পশুকে খাবার (খড়, ভুসি, কাঁচা ঘাস প্রভৃতি) দেওয়া থেকে বিরত থাকুন। তবে পানি বা তরল খাবার খাওয়াতে পারেন। এতে কোরবানির পর পশুর চামড়া ছাড়ানো অনেক সহজ হবে।
৭. পশু কোরবানির জন্য দক্ষ লোক নিয়োগ করুন। নইলে কোরবানির পশুর সমস্যা হতে পারে। জবাইকৃত গরু উঠে দৌড় দিতে পারে। তাছাড়া পশুর অতিরিক্ত কষ্ট হতে পারে।
৮. কোরবানির জন্য শোয়ানো অবস্থায় পশুটিকে যেন টানাহেঁচড়া না করা হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।
৯. কোরবানির পশু জবাই করার কাজে বড় ও চামড়া ছাড়ানোর কাজে ধারালো মাথার ছুরি ব্যবহার করতে হবে।
কোরবানির পরে করণীয় :
১. প্রাণীর ধমনী যাতে পুরোপুরি কাটা যায়, সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। প্রাণী জবাইয়ের পর পুরোপুরি রক্ত বন্ধ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। জবাইয়ের সঙ্গে সঙ্গে মাংস কাটা শুরু করা হলে মাংসের ভেতর রক্ত থেকে যাবে। এ ধরনের মাংস মোটেও স্বাস্থ্য সম্মত নয়, কারণ রক্তে অনেক ধরনের জীবাণু থাকতে পারে।
২. সাধারণত ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণে চামড়ার ক্ষতি ও গুণগত মান নষ্ট হয়ে থাকে। ব্যাকটেরিয়ার হাত থেকে পশুর চামড়াকে রক্ষা করতে বর্তমান বিশ্বে সাধারণত ড্রাই ট্রিটমেন্ট, সল্ট ট্রিটমেন্ট ও ফ্রিজিং করে চামড়া সংরক্ষণ করা হয়। 
৩. কোনো এলাকার লোকজন বিচ্ছিন্ন স্থানে কোরবানি না দিয়ে বেশ কয়েকজন মিলে একস্থানে কোরবানি করা ভালো। 
৪. কোরবানির জায়গাটি যেন খোলামেলা হয়। আর জায়গাটি রাস্তার কাছাকাছি হলে বর্জ্যের গাড়ি পৌঁছানো সহজ হবে। কোরবানির পর পশুর রক্ত ও তরল বর্জ্য খোলা স্থানে রাখা যাবে না। এগুলো গর্তের ভেতরে পুঁতে মাটিচাপা দিতে হবে। কারণ রক্ত আর নাড়িভুঁড়ি কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দুর্গন্ধ ছড়ায়। আর যদি রক্ত মাটি থেকে সরানো সম্ভব না হয়, তা হলে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।
৯. যারা চামড়া কিনবেন, তারা কোনো বদ্ধ পরিবেশে চামড়া পরিষ্কার না করে এমন খোলামেলা স্থানে করতে পারেন, যেখানে ময়লা জমে দুর্গন্ধ হবে না। আর চামড়ার বর্জ্য অপসারণের জন্য জমিয়ে রাখতে হবে।
১০. সর্বশেষে কোরবানির পশুর বর্জ্য নিজের উদ্যোগে পরিষ্কার করাই ভালো।


ক্যাটেগরিঃ পাঠক কলাম,
ট্যাগঃ কোরবানির পূর্বে ও পরে সতর্কতামূলক দৃষ্টিভঙ্গি
বিভাগঃ চট্টগ্রাম
জেলাঃ লক্ষ্মীপুর
ঢাকা মেট্রো নিউজ


আরো পড়ুন