প্রকাশঃ Sat, Jan 30, 2021 10:54 AM
আপডেটঃ Sat, Mar 6, 2021 9:40 PM


মোটর মেকানিক থেকে চোর চক্রের প্রধান

অনলাইন ডেস্ক

মোটর মেকানিক থেকে চোর চক্রের প্রধান

মোটর মেকানিক, শুরুটা চোরাই মোটরসাইকেল কেনাবেচা দিয়ে। পরে নিজেই যুক্ত হয় চুরিতে। পর্যায়ক্রমে হয়ে ওঠে সংঘবদ্ধ মোটরসাইকেল চোরচক্রের প্রধান, এর পাশাপাশি তৈরি করে বিশাল নেটওয়ার্ক।

কিশোরগঞ্জের বিল্লাল গত ৮ বছরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে দুই শতাধিক মোটরসাইকেল চুরি করেছে। সম্প্রতি ঢাকা থেকে তাকে গোয়েন্দা পুলিশ গ্রেফতার করে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১৭ অক্টোবরে রাজধানীর উত্তরার ৯ নম্বর সেক্টরের একটি গলিতে ঘোরাঘুরি করতে দেখা যায় দুজনকে। কিছুক্ষণ পর পাশের গলির একটি বাড়ি থেকে একটি মোটরসাইকেল নিয়ে বেরিয়ে যায় তারা। পরে জানা যায় ওই বাড়ি থেকে চুরি হয়েছে মোটরসাইকেলটি। রাজধানীর তুরাগ এলাকার আরেকটি নিরাপত্তা ক্যামেরার চিত্র থেকে দেখা যায়। সেখানেও একজনকে কিছুক্ষণ এদিক-সেদিক ঘোরাফেরার পর মোটরসাইকেল নিয়ে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়। জানা যায় এটিও চুরি হয়েছে। এমন অসংখ্য মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগ আসতে থাকে পুলিশের কাছে।

ভুক্তভোগী রবিউল ইসলাম বলেন, মাগরিবের আজান হওয়াতে নামাজের জন্য মসজিদে যাওয়াতে আমার মোটরসাইকেলটি চুরি যায়।

একের পর এক অভিযোগ আসায় অনুসন্ধানে নামে গোয়েন্দা পুলিশ। খোঁজ মেলে একটি সংঘবদ্ধ মোটরসাইকেল চোরচক্রের। চক্রের প্রধান বিল্লাল হোসেন বাদলকে রাজধানীর দক্ষিণখান থেকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যে দক্ষিণখান এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৪টি মোটরসাইকেল ও মোটরসাইকেল চুরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতার করা হয় তার আরেক সহযোগীকে।

পুলিশ বলছে, ২০১২ সালে ময়মনসিংহের ভালুকায় বিল্লালের মোটরসাইকেল সারানোর দোকান ছিল। সেখানে একজনের কাছ থেকে চোরাই মোটরসাইকেল কিনে বিক্রি করে সে। এরপর তার নিজ জেলা কিশোরগঞ্জে গিয়ে এ ব্যবসা শুরু করে। চুরির মামলায় আসামি হয়ে পালিয়ে আসে গাজীপুরে। পরিচয় হয় উজ্জ্বল ও পলাশ নামের দুই মোটরসাইকেল চোরের সঙ্গে। এবার রাজধানীতে পাড়ি জমায় বিল্লাল। পুরোদমে শুরু করে মোটরসাইকেল চুরি।

পুলিশকে বিল্লাল জানায়, প্রথমে চুরি মোটরসাইকেল কেনাবেচা করেছি। পরে উত্তরা, বাড্ডা ও চাঁদপুরের চোরদের সঙ্গে এক হয়ে কাজ করি।

২০১৮ সাল থেকে উত্তরার বিভিন্ন এলাকায় মোটরসাইকেল চুরি শুরু করেন বিল্লাল ও তার সহযোগীরা। চোরাই মোটরসাইকেল কয়েক হাত হয়ে পৌঁছে যেত গাজীপুর, ময়মনসিংহ, ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়াসহ আশপাশের কয়েকটি জেলায়।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দার উত্তরা জোনাল টিমের সহকারী পুলিশ কমিশনার শাহীদুল ইসলাম সম্প্রতি বলেন, তারা যে মোটরসাইকেল চুরি করত, সেটি কিন্তু ঢাকায় বিক্রি করত না, ঢাকার বাইরে বিক্রি করত। প্রত্যেকটা জেলার তাদের প্রতিনিধি আছে।   

একেকটি চোরাই মোটরসাইকেল বিক্রি হতো ৩০-৩৫ হাজার টাকায়। এ তথ্য জানিয়ে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা উত্তরা বিভাগের উপপুলিশ কশিশনার কাজী শফিকুল আলম জানান, এ চোরচক্রের সদস্যরা এভারেজ ৩০ হাজার টাকা করে পায় তাহলে এক মাসে এক লাখ টাকা ইনকাম আছে। দুষ্টু প্রকৃতির কেউ কেউ এ চুরি পেশা বেছে নিয়েছে।  

চোরচক্রের অন্য সদস্যদের ধরার চেষ্টা অব্যাহত আছে জানান তিনি।


ক্যাটেগরিঃ অপরাধ-ক্রাইম,
ট্যাগঃ মোটর মেকানিক থেকে চোর চক্রের প্রধান
ঢাকা মেট্রো নিউজ


আরো পড়ুন