প্রকাশঃ Sat, May 23, 2020 3:11 PM
আপডেটঃ Tue, Jul 28, 2020 4:14 PM


করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইমিউনিটি আমাদের বড় হাতিয়ার

অনলাইন ডেস্ক

করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইমিউনিটি আমাদের বড় হাতিয়ার

গত ৩ দিন একাকী আইসোলেশনে আছি। একটি নির্দিষ্ট কক্ষের মধ্যে এখন আমার বিচরণ হলেও লক্ষ লক্ষ মানুষের শুভকামনা এবং প্রার্থনার একটি অপার্থিব ভালবাসা আমার তনুমন এবং হৃদয় জুড়ে আছে। করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই ভালভাবেই চলছে। আল্লাহর অপার করুণা এবং দয়ায় আমি শারীরিকভাবে এবং মানসিকভাবে সুস্থ আছি। এখন পর্যন্ত করোনার কোন উপসর্গ অনুভব করছি না। স্বাস্থ্যবিধি মেনে Prescribed ওষুধ খাচ্ছি। মসলা চা, গরম পানির গার্গল আর steem inhalation ( নাক মুখে গরম পানির ভাপ) নিচ্ছি। আমি মানসিকভাবে শক্ত মানুষ। আমি করোনাকে খুব দ্রুত পরাজিত করতে চাই। ইনশাল্লাহ আর কয়েকদিন পরেই আবার করোনা টেস্ট করাবো।

আমি করোনা পজিটিভ বন্ধুদের বলবো এটি অন্যান্য ভাইরাল ফ্লুর মতই একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ। তবে আমি মনে করি করোনা আক্রান্ত হলে উচ্চ মনোবল বজায় রাখা জরুরী। শারীরিক বড় ধরনের অসুখ বিসুখ না থাকলে করোনা আপনাকে পরাস্ত করতে পারবে না। বাংলাদেশে করোনায়া মৃত্যু হার শতকরা ১.৫% এরও কম। অধিকাংশ করোনা পজিটিভ রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছে। ৭০ ঊর্ধ্ব বয়সের হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ এবং ডায়াবেটিক রোগে আক্রান্ত একজন করোনা থেকে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়েছেন গতকাল এমন একজনের সঙ্গে আলাপ হলো। তিনি এক সপ্তাহের ঘরোয়া চিকিৎসায় সম্পূর্ণ সুস্থ হয়েছেন। কাজেই করোনা আক্রান্ত হলেই ভয় পাবেন না বা মনোবল হারাবেন না। ভয় পেলে বা মনোবল হারালে আপনি অন্যান্য শারীরিক ও মানসিক রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। তবে করোনা রোগে কিছু মানুষ দুঃখজনকভাবে মারা যাচ্ছেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ  অন্য রোগে আক্রান্ত এবং স্বল্প ইমিউনিটি সম্পন্ন মানুষ করোনা যুদ্ধে হেরে যাচ্ছেন। তবে ব্যতিক্রমও আছে। অনেক সময় মারত্মক করোনা আক্রান্ত হয়ে সম্পূর্ণ সুস্থ কিছু মানুষ মারা যাচ্ছেন। আমরা সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাসী মানুষ। কাজেই করোনায় কারো মৃত্যু নির্ধারিত থাকলে স্রষ্টার ইচ্ছার বাস্তবায়ন প্রতিরোধ করার ক্ষমতা আমাদের কারো নেই। তবে মহামারীর সময় কিছু নিয়মকানুন মেনে চলা বাধ্যতামূলেক। বৈশ্বিক করোনা মহামারী প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি, সামাজিক ও শারীরিক দূরত্ব মেনে চলা অত্যন্ত জরুরী। জরুরী কাজে বাইরে বের হলে যথাপোযুক্ত মাস্ক পরিধাণ করতে হবে। কিছু সময় পর পর ২০ সেকেন্ড সময় নিয়ে সাবান দিয়ে হাত ধুয়া এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে হ্যান্ড স্যানিটাইজার বা হ্যান্ডরাব ব্যবহার করতে হবে। করোনা আক্রান্ত হলে তাকে অবহেলা করে দূরে ঠেলে না দিয়ে পরামর্শ দিন এবং তার সাহস ও মনোবল জোগানো জরুরী। করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইমিউনিটি আমাদের বড় হাতিয়ার। কাজেই ইমিউনিটি বাড়াতে হলে আমাদের যতদূর সম্ভব কার্বাইডেটের পাশাপাশি দুধ, ডিম, মাছ, মাংস, ডাল, শাকসবজি এবং দেশী ফলমুল খেতে হবে। শারীরিক সুস্থতার জন্য কায়িক পরিশ্রম বা দৈহিক ব্যায়াম করা অত্যন্ত জরুরী। আমি অনেকদিন পর একাকী বদ্ধ ঘরে সময় কাটাচ্ছি। এটা ঠিক সময় কাটছে না। তবে বই পড়ে, ধর্মকর্ম করে আর আপনাদের সঙ্গে অনলাইনে আড্ডা দিয়ে সময় কেটে যাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমার প্রতি লক্ষ লক্ষ মানুষের আবেগ এবং ভালবাসার বহিঃপ্রকাশ দেখে সত্যই আমি বিস্মিত, অবিভুত এবং আবেগাপ্লুত। আমি একজন অতি নগণ্য প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী। আমার কর্মকালে অসহায় সাধারণ মানুষের জন্য তেমন কিছুই করতে পারিনি। অথচ আমার পূর্বের কর্মস্থল জয়পুরহাট, বগুড়া, নওগাঁ এবং জন্মস্থান পাবনার কয়েকশত মসজিদে আমার জন্য দোয়া হয়েছে। সহস্রাধিক মানুষ ফোন করায় এক সময় আমার ফোন হ্যাং হয়ে যায়। আমার প্রতি আপনাদের এই আবেগ, স্নেহ, মায়া, ভালবাসা সত্যই অবর্ণনীয়। 

আপনাদের এত মানুষের আমাকে নিয়ে আবেগ, উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা আপনাদের নিকট আমাকে চিরঋণী করে রাখলো। আমি সত্যিকার অর্থে চিরঋণী হয়ে গেলাম। অত্যন্ত দুঃখিত ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও আপনাদের অধিকাংশের ফোন কল আমি রিসিভ করতে পারিনি, এমনকি মেসেজের উত্তর দিতে পারিনি। দোয়া করবেন কয়েকদিনের মধ্যেই যেন করোনা নেগেটিভ হয়ে আবার আপনাদের মাঝে ফিরে এসে করোনা প্রতিরোধ যুদ্ধে শামিল হতে পারি। আমি এই মুহূর্তে করোনা যুদ্ধের ফ্রন্টলাইন ফাইটার ডাক্তার, নার্স, টেকনোলজিস্ট এবং হেলথ সার্ভিস প্রোভাইডারদের গভীর ভালবাসা, কৃতজ্ঞতা এবং বিনম্র শ্রদ্ধা জানাচ্ছি

 

(ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)


ক্যাটেগরিঃ ফেসবুক কর্ণার,
ট্যাগঃ করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইমিউনিটি আমাদের বড় হাতিয়ার
ঢাকা মেট্রো নিউজ


আরো পড়ুন