প্রকাশঃ Mon, Mar 19, 2018 11:25 AM
আপডেটঃ Fri, Mar 27, 2020 1:02 AM


ছক্কা বিড়ম্বনায় স্বপ্নভঙ্গ

অনলাইন ডেস্ক

ছক্কা বিড়ম্বনায় স্বপ্নভঙ্গ

বল উড়ে গিয়ে সীমানার বাইরে পড়ার আগেই মাথায় হাত দিয়ে বাইশগজে লুটিয়ে কাঁদতে শুরু করলেন সৌম্য। জায়গায় বসে পড়েন সাকিব। আকাশের দিকে তাকিয়ে রইলেন মুশফিক। দুই হাতে মুখ ঢাকলেন মাহমুদুল্লাহ! অন্যরা কে কী করবেন ঠিক বুঝে উঠতে পারছিলেন না। আবারও যে রচিত হলো বেদনার কাব্য। শেষ বলে ছক্কা বিড়ম্বনায় স্বপ্ন ভঙ্গ হয়ে গেল বাংলাদেশের। পঞ্চমবারের মতো ফাইনালে উঠেও শিরোপা জিততে পারল না টাইগাররা। শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে ৪ উইকেটে জিতে নিদাহাস ট্রফিতে চ্যাম্পিয়ন হলো ভারত। ফাইনাল ম্যাচে শেষ ওভারটি ছিল উত্তেজনায় ঠাসা। জয়ের জন্য ভারতের দরকার ১২ রান। কিন্তু মহাগুরুত্বপূর্ণ ওভারে সাকিব বল তুলে দেন অনিয়মিত বোলার সৌম্যর হাতে। এ ছাড়া কোনো উপায়ও ছিল না। কেননা দুই পেসারের বোলিং কোটা আগেই শেষ হয়ে গিয়েছিল। তবে স্নায়ু চাপের ওভারে সৌম্য ৫ বল খুবই দুর্দান্ত করেছিলেন। যদিও ‘ওয়াইড’ দিয়ে শুরু। পরের বলেই ডট দিয়ে পুষিয়ে দেন সৌম্য। দ্বিতীয় বলে সিঙ্গেল। ৪ বলে তখন দরকার ১০ রান। তৃতীয় বলে আবারও সিঙ্গেল। ৩ বলে দরকার ৯ রান। চতুর্থ বলে বাউন্ডারি। ম্যাচ ক্লোজ হয়ে যায়। ২ বলে দরকার ৫ রান। কিন্তু পঞ্চম বলে ব্যাটসম্যান বিজয় শঙ্কর আউট। তারপর আসে নাটকীয় শেষ বল। জয়ের জন্য দরকার ৫ রান। কিন্তু ছক্কা হাঁকিয়ে বাংলাদেশকে হারিয়ে দেন ভারতের উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান দিনেশ কার্তিক। ফাইনাল ম্যাচে নায়ক হতে পারতেন রুবেল হোসেন। প্রথম তিন ওভারে মাত্র ১৩ রানে দুই উইকেট নিয়েছেন। সেই রুবেলই কিনা ১৯তম ওভার করতে গিয়ে দিয়েছেন ২২ রান। এই ওভারেই ম্যাচ ভারতের নাগালের মধ্যে চলে আসে। প্রথম বলে ছক্কা। দ্বিতীয় বলে চার। তৃতীয় বলে আবারও ছক্কা। চতুর্থ বল ডট। পঞ্চম বলে দুই এবং শেষ বলে আবারও বাউন্ডারি। হয়তো এমন এক ওভারের জন্য রুবেল নিজেকে ক্ষমা করতে পারবেন না! অথচ এই রুবেলই কিন্তু বাংলাদেশের অনেক ম্যাচে জয়ের ভীত গড়ে দিয়েছেন। ২০১৫ সালের বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ায় রুবেলের ম্যাজিক্যাল শেষ ওভারেই ইংল্যান্ডকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল বাংলাদেশ। সেই রুবেলই কিনা এ ম্যাচে খলনায়ক! কাল অসাধারণ বোলিং করেছেন কাটার মাস্টার মুস্তাফিজুর রহমান। ৪ ওভারে দিয়েছেন মাত্র ২১ রান। নিজের শেষের ওভারে দেখিয়েছেন আসল ক্যারিশমা। ভারতের জয়ের জন্য যখন দরকার ছিল ১৮ বলে ৩৫ রান তখন ‘মেডেন ওভার’ করেন মুস্তাফিজ। একটি উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচটাই যেন বাংলাদেশের হাতে তুলে দিয়েছিলেন কাটার মাস্টার। ঠিক পরের ওভারেই রুবেল যেন ম্যাচটা উল্টো ভারতের হাতে উপহার দিয়ে আসেন! ম্যাচের রূপ বদলে দেওয়া ওই ওভারে যতটা না রুবেলের দোষ তার চেয়ে বেশি কৃতিত্ব ভারতীয় ব্যাটসম্যান দিনেশ কার্তিকের। কী অসাধারণ তার ছক্কা ও চারগুলো। ‘ম্যান অব দ্য ফাইনাল’ হওয়া কার্তিক মাত্র ৮ বলে খেলেছেন ২৯ রানের টর্নেডো ইনিংস। স্ট্রাইক রেট ৬২.৫০! তবে জয়ের ভীত গড়ে দিয়েছিলেন ভারতীয় অধিনায়ক রোহিত শর্মা নিজেই। খেলেছেন ৪২ বলে ৫৬ রানের ইনিংস। ফাইনালে হারলেও শেষ বল  পর্যন্ত লড়াই করেছে বাংলাদেশ। তবে আলাদা করে বলতেই হবে সাব্বির রহমানের ইনিংসটির কথা। গ্রুপ পর্বের ম্যাচে ফর্মহীনতায় ভুগলেও ফাইনালে একাই খেলেছেন ৭৭ রানের ইনিংস। মাত্র ৫০ বলে এই সাইক্লোন ইনিংস খেলেছেন তিনি। ৪টি ছক্কার সঙ্গে ৭টি বাউন্ডারি। ব্যাটিংয়ে যেন একাই লড়াই করেছেন সাব্বির। গতকাল টস হারার পর পাওয়ার প্লেতে ৩ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়েছিল টাইগাররা। রানও এসেছিল মাত্র ৪০। মাত্র ৩৩ রানে ৩ উইকেট হারানোর পরও সাব্বিরের সাইক্লোন ব্যাটিংয়ে ১৬৬ রানের স্কোর করেছিল বাংলাদেশ। তারপরও স্কোর লাইনটা ১৮০ বা ১৯০ হতে পারত যদি মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ও সাকিব আল হাসানের মতো সেরা দুই ব্যাটসম্যান রান আউটের ফাঁদে না পড়ত! সাকিব আউট হয়েছেন শট রান নিতে গিয়ে, কিন্তু মাহমুদুল্লাহ ভুল বোঝাবুঝির শিকার। সব কিছুর পরও জয়ের খুব কাছে গিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু শেষ বলে নাটকীয় ছক্কায় স্বপ্ন ভঙ্গ হয়ে যায়! তবে এমন হারে বেদনা আছে! আছে কষ্টও। কিন্তু কোনো গ্লানি নেই, লজ্জা নেই! টাইগাররা লড়াই করেছে বীরের মতো।

বিডি প্রতিদিন/


ক্যাটেগরিঃ খেলাধুলা,
ট্যাগঃ ছক্কা বিড়ম্বনায় স্বপ্নভঙ্গ
ঢাকা মেট্রো নিউজ


আরো পড়ুন